চিত্রনায়ক ওমর সানীর বাসায় সম্প্রতি এক অদ্ভুত ডাকাতি ঘটেছে, যা দেখে তিনি অবাক হয়ে বললেন, “এটা যেন শুধু সিনেমাতেই সম্ভব!” গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে, সানী বাসায় ফিরে দেখেন, তার বেডরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বেশ কিছু চেষ্টা করার পর, সানী বুঝতে পারেন, কেউ যেন ভেতরে আটকানোর চেষ্টা করেছে। তার সহকারী এবং ম্যানেজারকে বিকল্প উপায়ে রুমে ঢুকতে বলা হয়, এবং তারা বারান্দার দরজার গ্লাস ভাঙার পর ভিতরে প্রবেশ করে।
ওমর সানী জানালেন, “বেডরুমে ঢুকতে গিয়ে দেখি, সব কিছু এলোমেলো। দরজার ছিটকিনি আটকানো, রুমের অবস্থা দেখে মনে হলো অনেক লোক এসেছিল। তারপর যখন দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলাম, বুঝতে পারলাম, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ছিল, আমার ছেলের সঙ্গে প্রতারণার একটি মামলা নিয়ে ২ কোটি টাকার ডকুমেন্ট, একটি আইফোন, এবং আমার মেয়ের ছোটবেলার কিছু স্বর্ণালংকার।”

দুপুরে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সানী জানান, তাঁর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন বিটকয়েন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে একটি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দুই কোটি টাকারও বেশি টাকা তিনি একটি ব্যবসায়ীকে দিয়ে ছিলেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি ছিল না কোনো বৈধ ব্যবসায়ী। এরপর, যখন সে টাকা ফেরত চায়, তখন সেই ব্যক্তি তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে উধাও হয়ে যায়।
সানী আরও বলেন, “আমি তো ভাবতেই পারিনি, এমন এক ধরনের ডাকাতি আমার বাসায় হতে পারে। এটা তো একেবারে ফিল্মের মতো! তবে, আমার আইনজীবীর কাছে মামলার সব ডকুমেন্ট আছে। আমি যে কোনো পরিস্থিতিতে দমে যাওয়ার মানুষ নই।” এই ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

ফারদিন এই প্রতারণার শিকার হওয়ার পর, সানী এবং মৌসুমী তাদের ছেলের সাহায্যে স্থানীয় মিডিয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, যে ব্যবসায়ীকে ফারদিন টাকা দিয়েছিলেন, তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না এবং ব্যবসার বৈধ লাইসেন্সও ছিল না। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর, সানী আরও শঙ্কিত হয়েছেন, কারণ তার বাড়ির ডাকাতির ঘটনায় সেই প্রতারণার মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গায়েব হয়ে গেছে।
বর্তমানে সানী, তার আইনজীবী ও পুলিশকে জানিয়েছে, এর মধ্যেই মামলার রায় আসতে যাচ্ছে। তিনি ভাটারা থানায় ডকুমেন্ট চুরির বিষয়টি জানিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। “এখনো পর্যন্ত আমি কোনভাবেই হতাশ নই। আমাকে অযথা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু আমি এগিয়ে যাবো। এই সব কিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থামবো না।”

এ ঘটনা সানী এবং তার পরিবারের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। ফারদিনের প্রতারণার মামলার পরবর্তী রায়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সানী-সঙ্গিনী মৌসুমী অবশ্য জানাচ্ছেন, তারা কোনো অবস্থাতেই এই সমস্যার সামনে নত হবে না।





